← ফতোয়ায় ফিরুন
Business & Trade জুল. 13, 2026

রেস্তোরাঁর পচনশীল মালামালের যাকাত

প্রশ্ন

আমার রেস্তোরাঁয় পচনশীল উপাদান ও সরবরাহ রয়েছে — তাদের যাকাত কীভাবে গণনা করব?

রায় (ফতোয়া)

সংক্ষিপ্ত উত্তর: হ্যাঁ, রেস্তোরাঁর পচনশীল মালামাল যা বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয় (ব্যবসায়িক পণ্য), তার বাজারমূল্যের ওপর যাকাত ওয়াজিব, যদি তা চান্দ্র বছরের শেষে নিসাব পরিমাণ থাকে। পচনশীল হওয়ার কারণে এগুলো যাকাত থেকে মুক্ত নয়, যদি যাকাত দেওয়ার সময় এগুলো মজুদ থাকে। সুন্নাহর প্রমাণ থেকে বোঝা যায় যে, ব্যবসার উদ্দেশ্যে রাখা সমস্ত সম্পদের ওপর যাকাত ফরজ, এবং এর মধ্যে রেস্তোরাঁর মালামালও অন্তর্ভুক্ত। বিস্তারিত: রেস্তোরাঁয় পচনশীল মালামাল—যেমন কাঁচা উপকরণ, সস, এবং অন্যান্য সরবরাহ—এগুলো ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে কেনা হয় (সরাসরি বা প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি খাদ্য হিসেবে)। যাকাত গণনা করা হবে চান্দ্র বছরের শেষে এগুলোর বর্তমান বাজারমূল্যের ওপর, ক্রয়মূল্য বা খরচের ওপর নয়। যদি মালামাল বছরের শেষে সম্পূর্ণরূপে বিক্রি বা ব্যবহার হয়ে যায়, তাহলে তার ওপর যাকাত নেই; শুধু যা মজুদ থাকে তা হিসাব করতে হবে। হাদিসে সম্পদের ওপর যাকাতের সাধারণ নীতি বর্ণিত হয়েছে। যেমন, নবী (ﷺ) যখন মুয়ায (রা.)-কে ইয়ামানে পাঠান, তখন বলেন: "তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর সাদাকা (যাকাত) ফরজ করেছেন, যা ধনীদের থেকে নেওয়া হবে এবং গরিবদের দেওয়া হবে" (সহিহ বুখারি ১৪৫৮)। এটি সকল প্রকার সম্পদের ওপর যাকাতের বিস্তৃত বাধ্যবাধকতা প্রমাণ করে, যা শুধু পশু বা ফসলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনুরূপভাবে, সোনা-রুপা জমা করে রাখার নিষেধাজ্ঞা (সহিহ বুখারি ১৪০৪) ইঙ্গিত দেয় যে যে সম্পদ কাজে লাগানো হয় না—যেমন অলস মজুদ—তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হতে পারে। প্রমাণ: ১. সহিহ বুখারি ১৪৫৮: নবী (ﷺ) মুয়ায (রা.)-কে নির্দেশ দেন যে লোকদের জানিয়ে দিতে যে আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর যাকাত ফরজ করেছেন, যা সব ধরনের সম্পদের ওপর প্রযোজ্য। ২. সহিহ বুখারি ১৪০৪: ইবনে উমর (রা.) ব্যাখ্যা করেন যে যাকাত না দিয়ে সম্পদ জমা করে রাখা নিন্দনীয়, এবং এটি ব্যবসায়িক পণ্যের ওপর যাকাতের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করে। ৩. সহিহ বুখারি ১৩৯৫: ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা যেখানে যাকাতকে সালাতের সাথে যুক্ত করা হয়েছে, যা এর গুরুত্ব ও বাধ্যবাধকতা নির্দেশ করে। এই হাদিসগুলো যদিও সরাসরি রেস্তোরাঁর মালামাল সম্পর্কে নয়, তবে এগুলো একটি সাধারণ নীতি প্রতিষ্ঠা করে যে সমস্ত সম্পদ যা ব্যবসা বা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে রাখা হয়, তার ওপর যাকাত ওয়াজিব। আহলে হাদীস পণ্ডিতগণ, যেমন ইবনে বাজ ও আল-উসাইমীন (রহ.), এই নীতি ব্যবসায়িক মজুদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। পচনশীল দ্রব্যের ক্ষেত্রে, যদি বছরের শেষে তা অবিক্রিত থাকে, তবে তার বাজারমূল্য যাকাত গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে। শেষকথা: এই উত্তর প্রদত্ত প্রমাণের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। জটিল ক্ষেত্রে, যেমন ভাগীদারি মাল বা নির্ভুল মূল্যায়ন পদ্ধতির জন্য একজন জ্ঞানী আলেমের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র

Hadith সহীহ বুখারী ১৪৫৮; সহীহ বুখারী ১৪০৪; সহীহ বুখারী ১৩৯৫
Fiqh ইবনে বাজ; আল-উসাইমীন; স্থায়ী কমিটি
0
SmartGoldTrade Support
Our team will reply
Start a chat
Our team replies personally. If everyone is busy we will email you back — which is why we need your address.

Enter the 6-digit code sent to your email