প্রশ্ন
আমার টাকা ইসলামী ব্যাংকের একটি মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে — এর উপর ও তার মুনাফার উপর যাকাত কীভাবে গণনা করব?
রায় (ফতোয়া)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: একটি মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাবের মূল পরিমাণ ও তার মুনাফার উপর যাকাত ওয়াজিব, যদি মোট পরিমাণ নিসাবের সমান বা বেশি হয় এবং এক বছর পূর্ণ হয়। মুনাফা সম্পদের অংশ হিসেবে গণ্য হয় এবং মূল টাকার সাথে মিলিয়ে যাকাত দিতে হবে।
বিস্তারিত: মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাবে থাকা টাকা নগদ সম্পদ হিসেবে গণ্য। যখন মূল ধন ও অর্জিত মুনাফা মিলে নিসাব (প্রায় ৮৫ গ্রাম সোনা বা ৫৯৫ গ্রাম রুপার সমমূল্য) পূর্ণ করে এবং এক চন্দ্র বছর পূর্ণ হয়, তখন যাকাত ফরজ হয়। মুনাফা পৃথক নয়; এটি মূলের সাথে যুক্ত করে পুরো পরিমাণের উপর ২.৫% হারে যাকাত দিতে হবে। যদি মূল ধন নিসাবের নিচে থাকে কিন্তু মুনাফা তাকে নিসাবে পৌঁছে দেয়, তাহলে মোটের উপর যাকাত ওয়াজিব। ব্যাংকের কোনো ফি বা চার্জ কেবলমাত্র অনিবার্য এবং সঠিকভাবে নথিবদ্ধ হলে কাটা যেতে পারে। বছরের মাঝে মুনাফা হাতে এলে তা প্রাপ্তির তারিখ থেকে হিসাবে ধরা হবে।
দলিল:
১. সহিহ বুখারী ১৪০৪ ও ১৪০৫ এ বলা হয়েছে যে, পাঁচ উকিয়ার কম সম্পদের যাকাত নেই; এটি নগদ সঞ্চয়ের জন্য নিসাব নির্ধারণ করে।
২. সূরা আত-তাওবা ৯:৩৪-৩৫ তে যারা স্বর্ণ-রৌপ্য জমা করে এবং যাকাত দেয় না তাদের নিন্দা করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সঞ্চয়ী হিসাবও এই বিধানের আওতায় পড়ে।
৩. সহিহ বুখারী ১৪০৩ এ যাকাত না দেওয়ার কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে, যা এর গুরুত্ব বোঝায়।
শেষ সতর্কতা: এই ফতোয়া প্রদত্ত দলিলের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। জটিল ক্ষেত্রে (যেমন একাধিক হিসাব, ঋণ, বা পরিবর্তনশীল মুনাফা) একজন যোগ্য আলিমের পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্র
Quran
সূরা আত-তাওবা ৯:৩৪-৩৫
Hadith
সহীহ বুখারী ১৪০৪; সহীহ বুখারী ১৪০৩; সহীহ বুখারী ১৪০৫
Fiqh
সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমের দলিলের ভিত্তিতে অধিকাংশ আলিমের মত; ইবন বাজ, আল-উসাইমীন ও স্থায়ী কমিটি।