Question
যাকাতের জন্য ফকীর বা মিসকীন কারা, এবং আমি কীভাবে বুঝবো যে কেউ সত্যিই যোগ্য?
Ruling (Fatwa)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: ফকীর ও মিসকীন হল যাকাতের আটটি খাতের মধ্যে প্রথম দুটি, যা সূরা আত-তাওবাহ ৯:৬০ এ উল্লেখিত। ফকীর হলেন যাঁদের মৌলিক চাহিদা পূরণের কোনো সম্পদ বা আয় নেই; মিসকীন হলেন যাঁদের কিছু আছে কিন্তু অপর্যাপ্ত। নবী (ﷺ) ইবন জামিলকে ফকীর হিসেবে উল্লেখ করেছেন যিনি পরে ধনী হন (সহীহ বুখারী ১৪৬৮, সহীহ মুসলিম ৯৮৩)। বাস্তবে, যাকাত দিতে হবে তাদেরকে যারা বৈধভাবে অভাবী বলে জানা যায়, এবং যাকাত আদায়কারী যাচাই করতে পারেন যেমন নবী (ﷺ)-এর নিযুক্তরা করতেন (সহীহ বুখারী ১৪৫৮, ১৩৯৫)। সন্দেহ হলে তাদের অবস্থা জানুন বা বিশ্বস্ত মাধ্যমের মাধ্যমে দিন।
প্রমাণ:
১. সূরা আত-তাওবাহ ৯:৬০ (P3) ফকীর ও মিসকীনকে যাকাতের প্রথম দুটি খাত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
২. সহীহ বুখারী ১৪৬৮ (P1) ও সহীহ মুসলিম ৯৮৩ (P8) থেকে বোঝা যায়, নবী (ﷺ) ইবন জামিলকে ফকীর বলে অভিহিত করেন, যা নির্দেশ করে যে দারিদ্র্য পর্যাপ্ত সম্পদের অভাব যা পরিবর্তিত হতে পারে।
৩. সহীহ মুসলিম ১০০০ক (P4) ও সহীহ বুখারী ১৪৬৬ (P6) নির্দেশ করে যে, যে স্বামীর কোনো সম্পদ নেই (খালি হাত) তাকে সদাকার প্রয়োজনীয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
৪. সহীহ বুখারী ১৪৫৮ (P5) ও ১৩৯৫ (P12) দেখায় যে নবী (ﷺ) মু'আধকে ইয়ামানে যাকাত আদায়ের জন্য পাঠিয়েছিলেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে নিযুক্ত আদায়কারীদের প্রাপক চিহ্নিত করতে বিশ্বাস করা হয়।
৫. সহীহ বুখারী ১৪৪৫ (P11) উপার্জন করে সদাকা দিতে উৎসাহিত করে, এবং যদি অক্ষম হয় তবে অভাবীকে সাহায্য করতে বলে, যা নিশ্চিত করে যে অভাব স্বীকৃত।
শেষ কথা: এই ফতোয়া শুধুমাত্র প্রদত্ত পাঠ্যের ভিত্তিতে; জটিল ক্ষেত্রে একজন জ্ঞানী আলেমের পরামর্শ নিন।
References
Quran
সূরা আত-তাওবা ৯:৬০
Hadith
সহীহ বুখারী ১৪৬৮; সহীহ মুসলিম ৯৮৩; সহীহ মুসলিম ১০০০a; সহীহ বুখারী ১৪৬৬; সহীহ বুখারী ১৪৫৮; সহীহ বুখারী ১৩৯৫; সহীহ বুখারী ১৪৪৫
Fiqh
কুরআন (সূরা আত-তাওবাহ ৯:৬০) ও সহীহ বুখারী/মুসলিম; পাঠ্যের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা