Question
আমার অলঙ্কারে বসানো হীরা, মুক্তা, রুবি ও অন্যান্য মণিমুক্তার উপর কি যাকাত ফরজ?
Ruling (Fatwa)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: হীরা, মুক্তা, রুবি বা অন্যান্য মণিমুক্তার উপর যাকাত ফরজ নয়, সেগুলো অলঙ্কারে বসানো থাকলেও নয়। যাকাত শুধু সোনা ও রূপার উপর ফরজ (তাদের অলঙ্কার সহ) যদি সেগুলো নিসাবে পৌঁছে এবং হিজরি বছরের শেষে থাকে, যেমন সহীহ হাদীসে স্পষ্ট। মণিমুক্তা সোনা বা রূপা নয়, এবং কুরআন বা সহীহ সুন্নাতে এদের জন্য কোনো নিসাব বা যাকাতের হার নির্ধারিত নেই।
বিস্তারিত: প্রমাণে দেখা যায় যে যাকাত বিশেষভাবে সোনা ও রূপার জন্য নির্ধারিত (সহীহ মুসলিম ৯৮৭এ-তে যারা সোনা-রূপার যাকাত দেয় না তাদের জন্য শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে)। রূপার নিসাব ৫ উকিয়া (সহীহ বুখারী ১৪০৫)। নবী ﷺ নারীদের তাদের অলঙ্কার থেকেও দান করতে উৎসাহিত করেছেন (সহীহ বুখারী ১৪৬৬), কিন্তু এটি সাধারণ সাদাকার নির্দেশ, অলঙ্কারের উপর যাকাত ফরজ হওয়ার প্রমাণ নয়। কোনো সহীহ হাদীসে মণিমুক্তা বা মূল্যবান পাথরের যাকাতের উল্লেখ নেই। তাই আপনার অলঙ্কারে যদি সোনা বা রূপা থাকে, তবে সেই ধাতুর উপর যাকাত দিতে হবে (যদি তা নিসাবে পৌঁছে এবং এক বছর ধরে থাকে), কিন্তু লাগানো মণিমুক্তার মূল্য বাদ যাবে। যদি অলঙ্কার পুরোটাই সোনা-রূপা ছাড়া অন্য ধাতু দিয়ে তৈরি (যেমন শুধু মণিমুক্তা ও বেস মেটাল), তাহলে কোনো যাকাত নেই।
প্রমাণ:
১. সহীহ বুখারী ১৪৬৬: নবী ﷺ বলেছেন, "হে নারীরা! তোমরা তোমাদের অলঙ্কার থেকেও দান করো।" এটি স্বেচ্ছা সাদাকাকে উৎসাহিত করে, অলঙ্কারের উপর যাকাত ফরজ করে না।
২. সহীহ বুখারী ১৪০৫: "পাঁচ উকিয়ার কম রূপার উপর যাকাত নেই" – এটি প্রমাণ করে যে যাকাত রূপা (এবং সোনার সাথে কিয়াস) এর সাথে সম্পর্কিত, সব মূল্যবান জিনিসের সাথে নয়।
৩. সহীহ মুসলিম ৯৮৭এ: "যে ব্যক্তি সোনা বা রূপার মালিক ... তার প্রাপ্য (যাকাত) আদায় না করে..." – যাকাত বিশেষভাবে সোনা ও রূপার উপর, অন্যান্য খনিজ দ্রব্যের উপর নয়।
এটিই আহলে হাদীস আলিমগণের (যেমন ইবন বাজ, আল-উসাইমীন) অবস্থান। কিছু আলিম (যেমন হানাফী) মণিমুক্তাকে বাণিজ্যপণ্য হিসেবে বিবেচনা করে যাকাতের আওতায় আনেন যদি তা বিক্রয়ের জন্য কেনা হয়, কিন্তু এ মতটি সুস্পষ্ট নস দ্বারা সমর্থিত নয়। জটিল ক্ষেত্রে কোনো বিদ্বানের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
References
Hadith
সহীহ বুখারী ১৪৬৬; সহীহ বুখারী ১৪০৫; সহীহ মুসলিম ৯৮৭a
Fiqh
ইবন বাজ; আল-উসাইমীন; স্থায়ী কমিটি (সৌদি আরব)