Question
একজনকে টাকা ধার দিয়েছিলাম — এখন সে অস্বীকার করে/দিতে পারছে না; আদৌ ফেরত পাব কি না জানি না। এ পাওনার যাকাত কি দিতে থাকব?
Ruling (Fatwa)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: না। অস্বীকারকারী, নিরুদ্দেশ বা অসচ্ছল ঋণগ্রহীতার কাছে পাওনা 'দুর্বল ঋণ' — উদ্ধার অনিশ্চিত থাকা পর্যন্ত তার যাকাত নেই। ফেরত পেলে বিশুদ্ধ মতে সেদিন থেকে নতুন হাওল শুরু হবে; কেউ কেউ ফেরত পাওয়ার সাথে সাথে এক বছরের যাকাত দেওয়ার কথা বলেছেন — তা সতর্কতামূলক ও উত্তম।
বিস্তারিত: যাকাতের শর্ত পূর্ণ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ; যে সম্পদ আদৌ ফিরবে কি না অজানা, তাতে বছর-বছর যাকাত চাপানো 'সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা'র পর্যায়ে পড়ে। এ মূলনীতিতেই আলী রা. ও ইবনে আব্বাস রা. থেকে হাতছাড়া/অনিশ্চিত সম্পদে যাকাত-স্থগিতের আসার বর্ণিত। ঋণগ্রহীতা সত্যিই অভাবী হলে তাকে সময় দেওয়া কুরআনের নির্দেশ, আর ঋণ মাফ করে দেওয়া আরও উত্তম — তবে মাফ করা অংশ যাকাত হিসেবে গণ্য হবে না (যাকাতে সম্পদ হস্তান্তর/তামলিক শর্ত)।
দলিল:
১. 'ঋণগ্রহীতা অভাবী হলে সচ্ছলতা পর্যন্ত অবকাশ দাও; আর ক্ষমা করে দেওয়া তোমাদের জন্য উত্তম, যদি জানতে' — সূরা বাকারা ২:২৮০।
২. 'আল্লাহ কারও ওপর সাধ্যাতিরিক্ত ভার দেন না' — সূরা বাকারা ২:২৮৬।
৩. হাওলের শর্ত — ইবনে মাজাহ ১৭৯২ (আলবানী: সহীহ)।
৪. লাজনা দায়িমা ও শাইখ উসাইমীন: অনাদায়ী ঋণে উদ্ধারের আগে যাকাত নেই।
বিশেষ জটিল ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হোন।
References
Quran
সূরা বাকারা ২:২৮০, ২:২৮৬
Hadith
ইবনে মাজাহ ১৭৯২, আলবানী: সহীহ
Fiqh
লাজনা দায়িমা; শাইখ উসাইমীন — দুর্বল ঋণ