Question
বহু বছর ধরে জীবন বীমার প্রিমিয়াম দিচ্ছি; মেয়াদ শেষে জমার সাথে বোনাসসহ টাকা পাব। এ পলিসির যাকাত ও হুকুম কী?
Ruling (Fatwa)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: (১) প্রচলিত (কনভেনশনাল) জীবন বীমা চুক্তিতে সুদ ও অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা (গারার) থাকায় দলিলনির্ভর আলেমগণ তা নাজায়েয বলেছেন — নতুন পলিসি না করা এবং সম্ভব হলে বিদ্যমানটি বন্ধ করাই কর্তব্য; শারঈ বিকল্প তাকাফুল। (২) যাকাত: পলিসি ভাঙালে আজ যে সারেন্ডার-ভ্যালু হাতে পেতেন, সেটিই আপনার প্রবেশযোগ্য সম্পদ — প্রতি বছর তা যাকাতের হিসাবে যোগ করা সতর্ক ও অগ্রগণ্য পথ; ভাঙানো একেবারে অসম্ভব হলে টাকা হাতে পাওয়ার পর হিসাব। (৩) মেয়াদপূর্তিতে নিজের দেওয়া মোট প্রিমিয়াম পর্যন্তই আপনার — এর অতিরিক্ত (বোনাস/মুনাফা) সুদ-উৎসের, সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দায়মুক্ত হবেন; তা যাকাত নয়।
দলিল:
১. 'আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন' — সূরা বাকারা ২:২৭৫; 'তোমাদের মূলধন তোমাদেরই' — ২:২৭৯।
২. 'পাপ ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরকে সাহায্য করো না' — সূরা মায়িদা ৫:২।
৩. রাসূল ﷺ ধোঁকা/অনিশ্চয়তার (গারার) ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন — সহীহ মুসলিম ১৫১৩।
৪. লাজনা দায়িমা ও শাইখ ইবনে বায: কনভেনশনাল বীমা নাজায়েয; বিকল্প — সমবায়ভিত্তিক তাকাফুল।
বিশেষ জটিল ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হোন।
References
Quran
সূরা বাকারা ২:২৭৫, ২:২৭৯; সূরা মায়িদা ৫:২
Hadith
সহীহ মুসলিম ১৫১৩ — গারার নিষেধ
Fiqh
লাজনা দায়িমা; শাইখ ইবনে বায — বীমা ও তাকাফুল