Question
একজনের কাছে টাকা পাই, সে দিতে পারছে না। শুনেছি কেউ কেউ দেনাদারকে যাকাত দিয়ে বলে 'এটা দিয়ে আমার ঋণ শোধ কর' — এভাবে যাকাতও আদায়, পাওনাও উদ্ধার। এটা কি বৈধ?
Ruling (Fatwa)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: শর্ত জুড়ে দিলে বৈধ নয় — 'তোমাকে যাকাত দিচ্ছি, ফেরত দেবে আমাকে' এ চুক্তি/সমঝোতায় যাকাতই আদায় হয় না, কারণ প্রকৃত তামলিক (নিঃশর্ত মালিকানা-হস্তান্তর) হয়নি; এটা কার্যত নিজের টাকা নিজের কাছেই ফেরানো। তবে শর্তহীনভাবে অভাবী দেনাদারকে যাকাত দেওয়ার পর সে সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় আপনার ঋণ শোধ করলে উভয়টাই সহীহ — যাকাতও আদায়, পাওনাও হালাল।
বিস্তারিত: মানদণ্ড হলো স্বাধীনতা: যাকাত পাওয়ার পর টাকাটা তার — সে চাইলে সংসারে খরচ করবে, চাইলে ঋণ শোধ করবে; আপনার পক্ষ থেকে চাপ-ইশারা-প্রত্যাশার বাঁধন থাকলেই তা হীলা। এর সহজ-নিরাপদ বিকল্প শরীয়ত নিজেই দিয়েছে: অক্ষম দেনাদারকে সময় দিন (ফরজ), পারলে মাফ করুন (উত্তম সদাকা — যদিও যাকাত নয়), আর তার ঋণ-শোধে সরাসরি যাকাত দিতে চাইলে গারিম-খাতে দিন প্রত্যাশামুক্ত মনে। নিয়ত জিনিসটা আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না — 'আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল'।
দলিল:
১. 'সদাকা... ঋণগ্রস্তদের জন্য' — সূরা তাওবা ৯:৬০; খাতটি দেনাদারের কল্যাণে, দাতার সুবিধায় নয়।
২. 'আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' — সহীহ বুখারী ১।
৩. অক্ষমকে অবকাশ/মাফের নির্দেশ — সূরা বাকারা ২:২৮০।
৪. জমহুর আলেমগণ, লাজনা দায়িমা ও শাইখ উসাইমীন: শর্তযুক্ত হলে অবৈধ; দেনাদারের স্বেচ্ছা-পরিশোধে বৈধ।
বিশেষ জটিল ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হোন।
References
Quran
সূরা তাওবা ৯:৬০; সূরা বাকারা ২:২৮০
Hadith
সহীহ বুখারী ১
Fiqh
জমহুর; লাজনা দায়িমা; উসাইমীন — শর্তহীন তামলিক