Question
পাঁচ বছর আগে এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিলাম — এখন সে টাকার ক্রয়ক্ষমতা অনেক কম। মুদ্রাস্ফীতির ক্ষতিপূরণসহ ফেরত চাওয়া যাবে কি? পাওনার যাকাতই বা কীভাবে?
Ruling (Fatwa)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: (১) ঋণ ফেরত হবে সম-অঙ্কে (মিসলান বি-মিসল) — এক লাখ দিয়েছেন, এক লাখই প্রাপ্য; মুদ্রাস্ফীতির ক্ষতিপূরণ শর্ত করা বা দাবি করা ঋণের ওপর বৃদ্ধি — রিবা। এটিই জমহুর ও ফিকহ একাডেমীর সিদ্ধান্ত। তবে ঋণগ্রহীতা স্বেচ্ছায়, পূর্বশর্ত ছাড়া, শোধের সময় বাড়িয়ে দিলে তা সুন্নাহসম্মত উত্তম পরিশোধ — বৈধ। (২) যাকাত: পাওনার অঙ্কের (এক লাখ) ওপরই — শক্তিশালী ঋণ হলে প্রতি বছর, দুর্বল হলে আদায়ের পর।
বিস্তারিত: মুদ্রাস্ফীতির ক্ষতি এড়ানোর হালাল পথ চুক্তির সময়েই: দীর্ঘমেয়াদে ধার দিলে স্বর্ণ/স্থিতিশীল মূল্যমানে ঋণ নির্ধারণ করা যায় (এক ভরি স্বর্ণ ধার → এক ভরি স্বর্ণই ফেরত) — শর্ত: শুরুতেই একক নির্ধারিত হবে, মাঝপথে বদলানো যাবে না। চরম-অস্বাভাবিক মূল্যপতনের (মুদ্রা কার্যত অচল) ক্ষেত্রে কিছু ফকীহ ভিন্ন হিসাবের কথা বলেছেন — এমন ব্যতিক্রমে বিজ্ঞ আলেমের শরণ নিন; স্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতি সে পর্যায়ে পড়ে না।
দলিল:
১. 'যদি তোমরা তাওবা কর তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই — জুলুম করবে না, জুলুমের শিকারও হবে না' — সূরা বাকারা ২:২৭৯।
২. 'তোমাদের সর্বোত্তম সে, যে ঋণ পরিশোধে সর্বোত্তম' — সহীহ বুখারী ২৩৯৩: স্বেচ্ছা-বৃদ্ধি পরিশোধকারীর পক্ষ থেকে সুন্নাহ।
৩. স্বর্ণ-রুপার লেনদেনে সমতার হাদীস — সহীহ মুসলিম ১৫৮৭।
৪. ইসলামী ফিকহ একাডেমী (জেদ্দা) ও লাজনা দায়িমা: ঋণ সম-অঙ্কে; মুদ্রাস্ফীতি-সূচকে বৃদ্ধি রিবা।
বিশেষ জটিল ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হোন।
References
Quran
সূরা বাকারা ২:২৭৯
Hadith
সহীহ বুখারী ২৩৯৩; সহীহ মুসলিম ১৫৮৭
Fiqh
ইসলামী ফিকহ একাডেমী, জেদ্দা; লাজনা দায়িমা