Question
যাকাতের ক্ষেত্রে 'পূর্ণ মালিকানা' বলতে কী বোঝায় এবং এটি হিমায়িত বা অপ্রাপ্য সম্পদের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে?
Ruling (Fatwa)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: প্রদত্ত সহীহ হাদীসসমূহে যাকাতের শর্ত হিসেবে 'পূর্ণ মালিকানা' (আল-মিলক আত-তাম্ম) স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। তবে যাকাত সাধারণত সেই সম্পদের উপর ফরয হয় যা ব্যক্তি সম্পূর্ণভাবে owns এবং নিয়ন্ত্রণ করে (দেখুন: সহীহ বুখারী ১৪৫৪, ১৪০৩, ১৪০৪ এবং সংশ্লিষ্ট বিধান)। এ থেকে বোঝা যায় যে, পূর্ণ মালিকানা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত সম্পদ যাকাতের আওতায় আসে না। হিমায়িত বা অপ্রাপ্য সম্পদ (যেমন: মামলাধীন অর্থ, দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানে আটকা সম্পদ, বা অন্য কোনো কারণে ব্যবহারের অযোগ্য) পুনরুদ্ধার এবং পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত যাকাত ওয়াজিব হয় না। এটি অধিকাংশ আলেমের মত, তবে প্রদত্ত হাদীসগুলো সরাসরি এই বিষয়টি আলোচনা করে না।
প্রমাণ:
১. সহীহ বুখারী ১৪৫৪-এ যাকাত মুসলিমদের উপর তাদের সম্পদ থেকে আদায় করা হতো, যা নির্দেশ করে যে সম্পদ তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
২. সহীহ বুখারী ১৪০৩-এ যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন কিন্তু যাকাত আদায় করেনি তার জন্য কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যাকাত নিয়ন্ত্রিত সম্পদের উপর।
৩. সহীহ বুখারী ১৪০৪-এ সোনা-রূপা জমা করে যাকাত না দেওয়ার নিন্দা জানানো হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রিত সম্পদের সাথে যাকাতের সম্পর্ক নির্দেশ করে।
৪. সহীহ বুখারী ১৪০৮ ও সহীহ মুসলিম ১০৫০-এও নিয়ন্ত্রিত সম্পদের উপর যাকাতের বাধ্যবাধকতা শক্তিশালী হয়েছে।
পূর্ণ মালিকানার শর্তটি এই ও অন্যান্য দলিল থেকে অনুমিত, কিন্তু হিমায়িত সম্পদ সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট হাদীস নেই।
সতর্কীকরণ: এটি জটিল বিষয়; নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একজন বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নিন।
References
Hadith
সহীহ বুখারী ১৪৫৪; সহীহ বুখারী ১৪০৩; সহীহ বুখারী ১৪০৪; সহীহ বুখারী ১৪০৮; সহীহ মুসলিম ১০৫০
Fiqh
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের সাধারণ যাকাত নির্দেশনার উপর ভিত্তি করে; ইবন বায, আল-উসাইমীন ও স্থায়ী কমিটির মতো আলেমগণ পূর্ণ মালিকানার শর্তটি অনুমান করেছেন।