Question
আমার কিছু মালামাল নষ্ট বা বছরের পর বছর বিক্রি হয়নি — কি আমি তাতে যাকাত দেব? এবং কোন মূল্যে?
Ruling (Fatwa)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: ব্যবসায়িক মজুদের যাকাত দিতে হবে তার বর্তমান ন্যায্য বিক্রয়মূল্যের উপর, যা যাকাতের তারিখে প্রযোজ্য। সম্পূর্ণরূপে বিক্রি অযোগ্য, নষ্ট বা মেয়াদোত্তীর্ণ মাল যার বাজার মূল্য নেই তা যাকাত থেকে বাদ যাবে। যে মাল বিক্রি হয়নি কিন্তু এখনও বিক্রিযোগ্য (এমনকি কম দামে) তার মূল্য ধরা হবে বাস্তব বিক্রয়মূল্যে।
বিস্তারিত: ব্যবসায়িক পণ্য হলো পুনর্বিক্রয়ের জন্য রাখা সম্পদ। প্রতিটি চান্দ্র বছরে এগুলোর মূল্যের উপর যাকাত দিতে হবে। মূল্যায়ন হবে যাকাত দিবসে বাস্তবে যে দামে বিক্রি করা সম্ভব, তা কেনা দাম নয়। যদি মাল সম্পূর্ণ নষ্ট বা মূল্যহীন হয় (যেমন মেয়াদোত্তীর্ণ, মেরামতের অযোগ্য, ক্রেতা নেই), তবে তার কোনো যাকাত মূল্য নেই। কারণ যাকাত শুধু ব্যবহারযোগ্য সম্পদের উপর ফরজ; মূল্যহীন বস্তুর যাকাত দেওয়া খারাপ সম্পদ দানের মতো, যা আল্লাহ কুরআন ২:২৬৭-এ নিষেধ করেছেন। একইভাবে, যে মাল বছরের পর বছর বিক্রি হয়নি কিন্তু কিছু মূল্য আছে (যেমন ছাড়ে বিক্রি হওয়া পুরনো মডেল) তা সেই কম বাস্তব মূল্যে গণ্য হবে। ব্যক্তিগত ব্যবহার বা মূলধনী সম্পদ (ব্যবসার জন্য নয়) যাকাতের আওতাভুক্ত নয়, যদি না তা সোনা-রূপা বা নগদ হয়।
প্রমাণ:
১. শাইখ উসাইমীন: ব্যবসাপণ্যের যাকাত যাকাত-দিনের ন্যায্য বিক্রয়মূল্যে হিসাব হয়; সম্পূর্ণ নষ্ট/বিক্রি অযোগ্য মূল্যহীন মালের কোনো যাকাত নেই। (P1)
২. আল্লাহ বলেন: "তোমরা যা উপার্জন কর তা থেকে যা উৎকৃষ্ট তা ব্যয় কর এবং নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প করো না, অথচ তোমরা তা গ্রহণ করবে না, যদি না তোমরা চোখ বন্ধ করে থাক।" (সূরা বাকারা ২:২৬৭) – এটি নির্দেশ করে যে যাকাত শুধু মূল্যবান, ভালো সম্পদ থেকে দিতে হবে; নষ্ট মূল্যহীন জিনিস যাকাত আদায় করতে পারে না। (P2)
৩. যাকাতের সাধারণ হাদীস (বুখারী ১৪৫৪, ১৪৫০) নিশ্চিত করে যে যাকাত উৎপাদনশীল সম্পদের উপর ফরজ, তবে ব্যবসাপণ্যের পদ্ধতি এই নীতির ভিত্তিতে আলেমদের ঐকমত্য থেকে নির্ধারিত। (P3, P4)
টীকা: উপরের উত্তর প্রদত্ত প্রমাণের উপর ভিত্তি করে। আংশিক ক্ষতি বা ওঠানামা করা মূল্যের জটিল ক্ষেত্রে একজন জ্ঞানী আলেমের পরামর্শ নিন।
References
Quran
সূরা আল-বাকারা ২:২৬৭
Hadith
সহীহ বুখারী ১৪৫৪; সহীহ বুখারী ১৪৫০
Fiqh
ইবন উসাইমীন; কুরআন ও সুন্নাহর সাধারণ যাকাত নীতির ভিত্তিতে