Question
আমি কি আমার অভাবী ভাই, বোন, চাচা, ফুফু, ভাতিজা বা শ্বশুরবাড়ির লোকদের যাকাত দিতে পারি?
Ruling (Fatwa)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: হ্যাঁ, আপনি আপনার অভাবী ভাই, বোন, চাচা, ফুফু, ভাতিজা বা শ্বশুরবাড়ির লোকদের যাকাত দিতে পারেন, যদি তারা আপনার ভরণপোষণের অধীনে না থাকেন (যেমন পিতামাতা বা সন্তান)। এটি কেবল জায়েযই নয় বরং উত্তম, কারণ এতে দান ও আত্মীয়তা রক্ষার সওয়াব উভয়ই রয়েছে।
বিস্তারিত: কুরআনে (সূরা আত-তাওবাহ ৯:৬০) যাকাতের আটটি খাত উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে দরিদ্র ও অভাবী অন্তর্ভুক্ত। আত্মীয়রা যদি দরিদ্র ও অভাবী হয় তবে তারা পাত্র। সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুশীলন থেকে আসে। সহীহ বুখারী ১৪৬৬-এ নবী মহিলাদেরকে তাদের অলংকার থেকে দান করার নির্দেশ দেন, এবং যায়নাব (রাঃ) তার স্বামী ও তার অধীনে থাকা এতিমদের জন্য দান করতেন—এটি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে দান করার অনুমতি দেখায়। আরও, সহীহ বুখারী ১৪৬১-এ নবী বলেছেন যে আত্মীয়কে দান করলে দ্বিগুণ সওয়াব: একটি দানের জন্য, অন্যটি আত্মীয়তা রক্ষার জন্য। লাজনা দায়িমা ও শাইখ উসাইমীন (প্রদত্ত প্রমাণে উদ্ধৃত) নিশ্চিত করেছেন যে যেসব অভাবী আত্মীয়ের ভরণপোষণ আপনার ওপর ওয়াজিব নয়, তাদের যাকাত দেওয়া অপরিচিতদের দেওয়ার চেয়ে উত্তম। শ্বশুরবাড়ির লোকদের ক্ষেত্রে, তারা রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় না হলেও তারা অভাবী হলে তাদের দেওয়াতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই; তারা সাধারণ দরিদ্রের খাতের অন্তর্ভুক্ত। তবে যাদের ভরণপোষণ আপনার ওপর ওয়াজিব (যেমন পিতামাতা, সন্তান, স্ত্রী) তাদের যাকাত দেওয়া উচিত নয়, কারণ তাদের ভরণপোষণ ইতিমধ্যেই আপনার দায়িত্ব (দেখুন সহীহ বুখারী ১৪২৮)।
প্রমাণ:
১. সহীহ বুখারী ১৪৬৬: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদেরকে দান করতে নির্দেশ দেন, এবং যায়নাব তার স্বামী ও এতিমদের জন্য দান করতেন—ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে দানের অনুমতি দেখায়।
২. ফতোয়া লাজনা দায়িমা: যেসব অভাবী আত্মীয়ের ভরণপোষণ ওয়াজিব নয়, তাদের যাকাত দেওয়া জায়েয ও উত্তম, দ্বিগুণ সওয়াব।
৩. সহীহ বুখারী ১৪৬১: নবী বলেছেন আত্মীয়কে দান করলে দুটি সওয়াব: দান ও আত্মীয়তা।
৪. সহীহ বুখারী ১৪২৮: নবী বলেছেন প্রথমে নিজের পোষ্যদের দিয়ে শুরু করতে—ইঙ্গিত করে যে অ-পোষ্য আত্মীয়রা পাত্র।
সতর্কতা: এটি একটি সাধারণ ফতোয়া। জটিল পারিবারিক পরিস্থিতির জন্য একজন যোগ্য আলেমের পরামর্শ নিন।
References
Hadith
সহীহ বুখারী ১৪৬৬; সহীহ বুখারী ১৪২৮; সহীহ বুখারী ১৪৬১
Fiqh
স্থায়ী কমিটি (লাজনা দায়িমা); শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন; ইবন বায; সহীহ বুখারী ১৪৬১, ১৪৬৬, ১৪২৮-এর ভিত্তিতে।