Question
আমার নগদ সঞ্চয় নিসাবের ওপরে, কিন্তু বড় অঙ্কের ঋণও আছে। ঋণ বাদ দিয়ে যাকাত হিসাব করব, নাকি পুরো সঞ্চয়ের ওপর দেব?
Ruling (Fatwa)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: দলিলের দিক থেকে অগ্রগণ্য মত — ঋণ থাকা সত্ত্বেও হাতে থাকা নিসাব-পরিমাণ সম্পদের যাকাত দিতে হবে; ঋণ যাকাত রোধ করে না। তবে যে কিস্তি/ঋণ এখনই পরিশোধ্য (আসন্ন), তা বাদ দেওয়ার অবকাশ বহু আলেম দিয়েছেন — সেটিও গ্রহণযোগ্য মত। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পুরো অঙ্ক বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।
বিস্তারিত: রাসূলুল্লাহ ﷺ যাকাত-আদায়কারীদের মানুষের দৃশ্যমান সম্পদ থেকে যাকাত নিতে পাঠাতেন — কারও ঋণ আছে কি না জিজ্ঞেস করে অব্যাহতি দেওয়ার নজির নেই; সাহাবায়ে কেরামও তা করেননি। শাইখ উসাইমীন ও শাইখ ইবনে বাযের ফতোয়া এটিই: যাকাত সম্পদের সাথে সম্পৃক্ত ফরজ, ঋণ ব্যক্তির জিম্মায় আলাদা দায়। আপনি চাইলে আগে আসন্ন-পরিশোধ্য কিস্তি আদায় করে দিন — তারপর অবশিষ্টের যাকাত দিন; এতে উভয় দিক রক্ষা হয়।
দলিল:
১. 'তাদের সম্পদ থেকে সদাকা নিন' — সূরা তাওবা ৯:১০৩; হুকুম বিদ্যমান সম্পদের ওপর, নিট-হিসাবের ওপর নয়।
২. মুআয রা.-কে নির্দেশ: 'তাদের ধনীদের থেকে নেওয়া হবে, তাদের দরিদ্রদের দেওয়া হবে' — সহীহ বুখারী ১৩৯৫; ঋণ-জিজ্ঞাসার শর্ত নেই।
৩. শাইখ উসাইমীন (মাজমু' ফাতাওয়া, যাকাত): 'বিশুদ্ধ মত হলো — ঋণ যাকাত ফরজ হওয়া রোধ করে না।'
প্রয়োগ: এই প্ল্যাটফর্মের ক্যালকুলেটরে 'ডিডাকশন' ঘরে কেবল আসন্ন-পরিশোধ্য (চলতি) দায় লিখুন — দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পুরো ব্যালান্স নয়।
বিশেষ জটিল ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হোন।
References
Quran
সূরা তাওবা ৯:১০৩
Hadith
সহীহ বুখারী ১৩৯৫
Fiqh
শাইখ উসাইমীন; শাইখ ইবনে বায — ঋণ যাকাত রোধ করে না