Question
ঋণে জর্জরিত ব্যক্তিকে কি যাকাতের টাকা দেওয়া যাবে? আর আমার কাছে কারো ঋণ মাফ করে দিলে সেটা কি আমার যাকাত হিসেবে ধরা যাবে?
Ruling (Fatwa)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: (১) হ্যাঁ — ঋণগ্রস্ত (গারিমীন) কুরআনে বর্ণিত যাকাতের আট খাতের একটি; হালাল প্রয়োজনে ঋণী ও পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তিকে যাকাত থেকে ঋণ-পরিমাণ দেওয়া যাবে, এমনকি সরাসরি তার পাওনাদারকেও পরিশোধ করা যায়। (২) না — নিজের পাওনা মাফ করে দিলে তা মহৎ সদাকা, কিন্তু যাকাত হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ যাকাতে সম্পদ প্রকৃত হস্তান্তর (তামলিক) শর্ত, আর ঋণ-মাফ কার্যত অনাদায়ী সম্পদ ছেড়ে দেওয়া — নতুন কিছু দেওয়া নয়।
বিস্তারিত: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন — তিন ব্যক্তি ছাড়া চাওয়া হালাল নয়, তার একজন এমন ঋণগ্রস্ত যে ঋণে ডুবে গেছে; ঋণ পরিশোধ-পরিমাণ পাওয়া পর্যন্ত তার জন্য চাওয়া বৈধ (সহীহ মুসলিম ১০৪৪)। শর্ত: ঋণ হারাম কাজে (সুদ, জুয়া) নেওয়া হলে আগে তাওবা প্রমাণিত হতে হবে। যাকাতদাতা নিজের ঋণগ্রস্ত ভাই/আত্মীয়কেও দিতে পারেন — বরং আত্মীয়ে সদাকা ও আত্মীয়তা-রক্ষা দুই সওয়াব।
দলিল:
১. 'সদাকা তো কেবল ফকির, মিসকীন, তা আদায়ে নিযুক্ত কর্মী, চিত্তাকর্ষণীয় ব্যক্তি, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর পথ ও মুসাফিরের জন্য' — সূরা তাওবা ৯:৬০।
২. কাবীসা রা.-এর হাদীস: ঋণগ্রস্তের জন্য চাওয়া বৈধ — সহীহ মুসলিম ১০৪৪।
৩. তামলিক-শর্ত ও ঋণ-মাফ যাকাত না হওয়া — জমহুর আলেমগণ; লাজনা দায়িমা ও শাইখ উসাইমীনের ফতোয়া।
বিশেষ জটিল ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হোন।
References
Quran
সূরা তাওবা ৯:৬০
Hadith
সহীহ মুসলিম ১০৪৪
Fiqh
জমহুর; লাজনা দায়িমা; শাইখ উসাইমীন — তামলিক শর্ত