Question
সোনা বা রূপার থালা-বাসন ও চামচ ইত্যাদি রাখা কি জায়েজ? আর এগুলোর উপর কি যাকাত ওয়াজিব হয়?
Ruling (Fatwa)
সংক্ষিপ্ত উত্তর: সোনা ও রূপার পাত্রে খাওয়া-দাওয়া করা নিষিদ্ধ, এবং এই উদ্দেশ্যে সেগুলো রাখাও নিষিদ্ধ। যদি কেউ এগুলো রাখে, তাহলে নেসাব পরিমাণ ও এক বছর মালিকানায় থাকলে যাকাত ওয়াজিব হবে।
বিস্তারিত:
১. ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা: রাসূলুল্লাহ ﷺ স্পষ্টভাবে সোনা ও রূপার পাত্রে পান করতে এবং থালায় খেতে নিষেধ করেছেন (সহীহ মুসলিম ২০৬৭)। এই নিষেধাজ্ঞা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য। এই ধরনের পাত্র ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখাও নিষিদ্ধ, কারণ পাত্র ব্যবহারের জন্য তৈরি। তাই খাওয়া-দাওয়ার জন্য সোনা-রূপার থালা, চামচ ইত্যাদি রাখা জায়েজ নয়।
২. যাকাতের বাধ্যবাধকতা: সোনা ও রূপা যেকোনো আকারেই হোক, নেসাব পরিমাণ হলে তা যাকাতযোগ্য সম্পদ। রূপার নেসাব পাঁচ উকিয়া (প্রায় ৫৯৫ গ্রাম বা ২০০ দিরহাম) – সহীহ বুখারী ১৪৪৭, ১৪০৫, ১৪৫৯। সোনার নেসাব বিশ মিসকাল (প্রায় ৮৫ গ্রাম) – যা অন্যান্য সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত (এখানে দেওয়া দলিলে সরাসরি নেই, তবে সর্বজনস্বীকৃত)। কুরআন (তওবা ৯:৩৪-৩৫) ও হাদীসে (সহীহ মুসলিম ৯৮৭ক) যাকাত না দেওয়ার কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। তাই কেউ যদি সোনা-রূপার পাত্র রাখে এবং তা নেসাব পরিমাণ ও এক বছর মালিকানায় থাকে, তবে তার বাজারমূল্যের উপর যাকাত দিতে হবে। এগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও যাকাতের বাধ্যবাধকতা রহিত হয় না, কারণ যাকাত সম্পদের উপর ওয়াজিব।
দলিল:
১. সহীহ মুসলিম ২০৬৭ – সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার নিষিদ্ধ।
২. সহীহ বুখারী ১৪৪৭ – পাঁচ উকিয়ার কম রূপার যাকাত নেই; রূপার নেসাব নির্ধারণ।
৩. সহীহ মুসলিম ৯৮৭ক – সোনা-রূপার যাকাত না দেওয়ার শাস্তির সতর্কবাণী।
৪. সূরা তওবা ৯:৩৪-৩৫ – যাকাত না দিয়ে সোনা-রূপা জমা করার নিন্দা।
জটিল ক্ষেত্রে (যেমন বিনিয়োগ বা সাজানোর জন্য রাখা) যোগ্য আলেমের পরামর্শ নিন।
References
Quran
সূরা আত-তাওবা ৯:৩৪-৩৫
Hadith
সহীহ মুসলিম ২০৬৭; সহীহ বুখারী ১৪৪৭; সহীহ মুসলিম ৯৮৭a
Fiqh
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম থেকে গৃহীত; আহলে হাদীস আলেমদের মতামত।